চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে একটি পুরোনো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে সাতজন শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালের দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিপইয়ার্ডটিতে পুরোনো এলএনজিবাহী জাহাজটি ভাঙার কাজ চলছিল। শুক্রবার সকালে জাহাজের ভেতরের একটি বদ্ধ ঘরে (কনফাইন্ড স্পেস) কাজের প্রয়োজনে কয়েকজন শ্রমিক নামেন। সেখানে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে মুহূর্তের মধ্যেই একের পর এক শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়েন।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রাথমিক উদ্ধারকাজ শেষে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়।
দু মর্মান্তিক এ ঘটনায় নিহত সাতজনের মধ্যে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—মোহাম্মদ নাসির (৪৭), মোহাম্মদ মনসুর (৫৫) তারা উভয়েই সেকান্দর মিয়ার ছেলে। বাকি নিহতদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
প্রথমে সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে বিস্ফোরণের খবর ছড়ালেও পুলিশ তা নাকচ করে দিয়েছে। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, “ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় অন্যদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আরও পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা সাতজনে দাঁড়িয়েছে।”
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগম বলেন, “বিস্ফোরণের তথ্যটি সঠিক নয়। মূলত জাহাজের প্রকোষ্ঠে আগে থেকে জমাজোট বেঁধে থাকা বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের কারণেই এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।”
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পেছনে নিরাপত্তা ত্রুটি বা অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়ে ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল এবং সুরক্ষাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে শিপইয়ার্ডে বারবার এমন দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে ফের তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

