সীমান্তের দিকে পালানোর সময় যৌথ অভিযানে ধরা চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

0
সীমান্তের দিকে পালানোর সময় যৌথ অভিযানে ধরা চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম নগরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ত্রাস, একাধিক হত্যা ও কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোরের সীমান্তঘেঁষা এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সীমান্তে অবস্থানের খবর পেয়ে চট্টগ্রাম ও যশোর জেলা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, “সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখান থেকে একটি গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে মোবারক হোসেন ডেভিডকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। চট্টগ্রাম পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানের পর তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম জানান, ডেভিড ইমন ও তার অন্যতম প্রধান সহযোগী রায়হানকে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম দীর্ঘদিন ধরে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আসছিল। সেই ধারাবাহিকতায় যশোর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও, একই সময়ে নোয়াখালীতে চালানো অন্য এক অভিযানে তার সহযোগী রায়হান অল্পের জন্য পালিয়ে যায়। তাকেও দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পুরো অভিযান ও বিস্তারিত তথ্য জানাতে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে গত রবিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে ডেভিড ইমনের দুই সশস্ত্র অস্ত্রধারী সহযোগী—মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)-কে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যাদের মধ্যে আসিফ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি।

পুলিশের দাবি, ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা মো. মুসার ছেলে ডেভিড ইমন অস্ত্র ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ এবং তার নিজস্ব স্কোয়াডে ১৫ থেকে ২০টি ভারী আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে চট্টগ্রামে রাজত্ব গড়ে তুলেছিলেন ডেভিড ইমন। তার বিরুদ্ধে বাকলিয়ার আলোচিত জোড়া খুন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সন্ত্রাসী ‘ঢাকাইয়া আকবর’ হত্যাসহ অন্তত ৭টি হত্যা ও ডজনখানেক চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে।

সর্বশেষ গত ১৩ জুলাই চন্দনপুরায় ‘ডিজিটাল ডট নেট’ (ডিডিএন) নামে একটি বড় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে প্রকাশ্যে হামলা ও ৩৫ লাখ টাকা লুটপাটের ঘটনায় ডেভিড ইমনের নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। হামলার আগে বিদেশে অবস্থানরত ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ায় প্রকাশ্যে এই তাণ্ডব চালানো হয়, যার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, ডেভিড ইমনের এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার শিল্প-ব্যবসায়িক এলাকায় স্বস্তি ফিরবে এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক অনেকটাই ভেঙে পড়বে।